সড়ক নয় যেন মিনি পুকুর; আমতলীর ১২ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ | আপন নিউজ

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়ায় দুই রাখাইন পল্লীতে অভিযা’ন, ১০০ লিটার চো’লা’ই ম’দ ধ্বংস প্রবাহমান খাল বন্দোবস্থ বাতিলের দাবিতে আমতলীতে বি’ক্ষো’ভ পটুয়াখালী-৩ গলাচিপা-দশমিনায় প্রচারণায় এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন দেশি-বিদেশি শক্তি নির্বাচন বানচাল করতে চায়: সংবাদ সম্মেলনে ভিপি নুর আমতলীতে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ছিটকে পড়ে শ্রমিক নি’হ’ত কলাপাড়ায় অ’বৈ’ধ বালু উত্তোলন: ৫০ হাজার টাকা জ’রি’মা’না, কা’রা’দণ্ডের আদেশ কলাপাড়ায় ই’য়া’বা বিক্রির দায়ে দুই যুবকের কা’রা:দ’ণ্ড কলাপাড়ায় ১.৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন কলাপাড়ায় সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি ম’দ উ’দ্ধা’র, আ’ট’ক-৪ কলাপাড়ায় মসজিদের ইমামকে পি’টি’য়ে র’ক্তা’ক্ত জ’খ’ম
সড়ক নয় যেন মিনি পুকুর; আমতলীর ১২ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ

সড়ক নয় যেন মিনি পুকুর; আমতলীর ১২ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।। আমতলী ও তালতলীর সড়কের ১২ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে মিনি পুুকুরে পরিনত হয়েছে।

হাজারো খানাখন্দের সড়কে দুই উপজেলার অন্তত দুই লক্ষ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত এক বছর ধরে সড়কে ভারী যানবাহন ও পরিবহন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।



জানাগেছে, ১৯৮৮ সালে তালতলী উপজেলা শহরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম তালতলী সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেন আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। মানিকঝুড়ি থেকে সোনাকাটা পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়ক। ওই বছর মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ নির্মাণ করে। ২০০৩ সালে কচুপাত্রা থেকে সোনাকাটা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক হেরিনবন করা হয়। ২০০৮ সালে ওই সড়কটি পাকাকরণ করা হয়। ভেঙ্গে যাওয়ায় ২০১৬ সালে ওই সড়কটি সংস্কার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে সড়ক সংস্কারে ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করে। এতে সড়ক সংস্কারের তিন বছরের মাথায় ওই সড়কটি খানাখন্দে পরিনত হয়। এদিকে মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সড়কটি ২০১৯ সালে সংস্কার করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। সড়ক সংস্কারের এক বছরের মাথায় ১২ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে ঢোবায় পরিনত হয়। বর্তমানে সড়কটি বেহাল দশায় পড়ে আছে। বৃষ্টি এলেই সড়কের খানাখন্দ পানি জমে মিনি পুকুরে পরিনত হয়। ওই সড়ক দিয়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ, ঢাকা ও তালতলীগামী পরিবহন বাস, তালতলী আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাভার ভ্যান, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাহেন্দ্র, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও মোটর সাইকেলসহ সহ¯্রাধীক গাড়ী চলাচল করে। এতে দুর্ভোগে পরেছে দুই উপজেলার দুই লক্ষাধীক মানুষ ও যানবাহন। সড়ক দিয়ে চলাচল করতে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেহাল সড়কের কারনে গত এক বছর ধরে পরিবহন গাড়ী চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন গত দুই বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের ছাড়া অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কেউ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। দ্রæত সড়ক সংস্কার করে চলাচলের পথ সুগম করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা বীজ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের প্রতি ১০ মিটার অন্তত অন্তত বড় বড় খানাখন্দে পরিপূর্ণ। গর্তে পানি জমে ঢোবায় পরিনত হয়েছে। অনেক স্থানে ছোট গাড়ী আটকে যাচ্ছে। হাজারো খানাখন্দে ভরে গেছে সড়কটি। সড়ক নয় যেন মিনি পুকুর। প্রায়ই সড়কে দুর্ঘটনা হচ্ছে। খানাখন্দে ভয়ে সড়কটি মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। গত দুই বছর ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ মাহবুবুর বহমান জাফর বিশ্বাস বলেন, দুই বছর ধরে সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পরেছে দুই উপজেলার অন্তত দুই লক্ষ মানুষ। মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সড়কে হাজারো খানাখন্দ। দ্রুত সড়ক সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের পথ সুগম করার দাবী জানান তিনি।
তারিকাটা গ্রামের জসিম উদ্দিন মৃধা বলেন, সড়ক নয় যেন মরণ ফাঁদ। সব কিছুর উন্নয়ন হলেও এই সড়কের কোন উন্নয়ন নেই। সড়ক সংস্কারের দাবী জানাই।

একই গ্রামের কৃষক সোবাহান ও শহিদ বলেন, মোরা আর কি কমু? মোনে হয় মোরা এই দ্যাশের মানু না। এমপি, চেয়ারম্যান ও মেম্বর সবার সব চলে মোগো রাস্তার কাম চলে না। মোরা যে কত কষ্ট হরি হ্যা আল্লাই জানে। মোগো রাস্তাডারে একটু পাহা হইর‌্যা দেন।

বাস গাড়ী চালক মিজানুর রহমান ও মজিবুর রহমান বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারনে গত এক বছর ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তালতলী উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক শামীম পাটোয়ারী বলেন, সড়কে নয় যেন মিনি পুকুর। ১২ কিলোমিটার সড়কে অন্তত ৫০ টি স্থানে মিনি পুকুরে পরিনত হয়েছে। অভিভাবকহীন এ সড়কটি দ্রæত সংস্কারের দাবী জানাই।

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সড়ক সংস্কারের জন্য বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে প্রকল্প জমা দিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুত সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করবো।

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফোরকান খাঁন বলেন, সড়কের প্রাক্কলন তৈরি করে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।

 

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!